‘হেলোউইন’ (HALLOWEEN) ইন বাংলাদেশ

Halloween” আইরিশ ও স্কটিশ অভিবাসীরা ১৯শ শতকে এই ঐতিহ্য উত্তর আমেরিকাতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলিও হ্যালোউইন উদযাপন করা শুরু করে। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের অনেকগুলি দেশে হ্যালোউইন পালিত হয়, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, পুয়ের্তো রিকো, এবং যুক্তরাজ্য। এছাড়া এশিয়ার জাপানে এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও কখনো কখনো হ্যালোউইন পালিত হয়। আইরিশ, যুক্তরাজ্য, ওয়েলশ সম্প্রদায়ের লোকেরা বিশ্বাস করতো যে প্রত্যেক নতুন বছরের আগের রাতে (৩১শে অক্টোবর) সাহেইন, মৃত্যুর দেবতা, আঁধারের রাজ পুত্র, সব মৃত আত্মা ডাক দেয়। এই দিন মহাশূন্য এবং সময়ের সমস্ত আইনকানুন মনে হয় স্থগিত করা হয় এবং জীবিতদের বিশ্ব যোগদান করতে মৃত আত্মাদের অনুমোদন করে। তারা আরও বিশ্বাস করতো যে মৃত্যুর কারণে তারা অমর যুবক হয়ে একটি জমিতে বসবাস করতো এবং আনন্দে ডাকা হতো “Tir nan Oge”। মাঝে মাঝে বিশ্বাস করতো যে স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড অঞ্চলের ছোট পাহাড়ে কখনো কখনো মৃতরা পরীদের সাথে থাকে।

একটি লোককাহিনী থেকে বর্ণিত আছে যে সমস্ত মৃত ব্যক্তিরা ৩১শে অক্টোবর রাত্রিতে জীবিতদের বিশ্বে আসে আগামী বছরের নতুন দেহ নেওয়ার জন্য। এজন্য গ্রামবাসীরা এই খারাপ আত্মাদের থেকে বাচার জন্য ব্যবস্থা নেয়। এই প্রথাটি ছিল পবিত্র বেদি আগুন বন্ধ করা এবং নতুন আগুন জ্বালানো হতো (যেটি নতুন বছরের আগমন প্রতীক হিসাবে ছিল) পরবর্তী প্রভাতে।
আইরিশ, যুক্তরাজ্য-বাসী কেল্টদিগের পরিহিতরা তারা মিলিত হতো একটি অন্ধকার ওক (পবিত্র গাছ হিসেবে বিবেচনা করা হতো) বনের ছোট পাহাড়ে নতুন আগুন জ্বালানোর জন্য এবং বীজ ও প্রাণী উৎসর্গ করতো। আগুনের চারিদিকে নাচতো এবং গাইতো প্রভাত পর্যন্ত, পথ অনুমোদন করেত সৌর বছর এবং আঁধার ঋতুর মধ্যে। যখন প্রভাত হয়, আইরিশ, যুক্তরাজ্য-বাসী কেল্টদিগের পরিহিতরা প্রতি পরিবার থেকে জ্বলানো অগ্নির কয়লা পরিধান করতো।।। (লেখাটি মূল লিংক-এখানে)

ছবি-Arts by Rats

বাংলাদেশেও বড় আকারে হেলোউন উৎসব হয়েছিল ২০১৫ সালে। তবে এই উৎসবে শুরুটা অনেক আগ থেকে শুরু হয়। তবে শারীরিকভাবে প্রথমে ধাক্কাটা এসেছিল হুমায়ুজ আজাদের উপর। তারপর শুরুটা ২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারিতে রাজিব হায়দার হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এর পর ২০১৫ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারিতে অভিজিৎ রায়কে হত্যার মধ্য দিয়ে গতি লাভ করে। বাংলাদেশে হেলোউন উৎসবের প্রেক্ষাপট ও ঘটনা পুরোটাই আলাদা।

ধর্মীয় হত্যার ইতিহাস প্রাচীনকাল থেকে শুরু। বেহেস্তে-গামী প্রজন্ম-যোদ্ধারা এটিকে আধুনিক যুগেও নিয়ে আসে। বর্তমানে ইসলামিক দেশগুলো সহ ভারতেও ছোট-বড় পরিসরে হ্যালোউইন উৎসব পালিত হয়। তবে বর্তমানে এটি ইসলামিক মোল্লাদের বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেকগুলি দেশে হ্যালোউইন পালিত হয়, যেমন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, সৌদি আরব, ইরানসহ বিভিন্ন ইসলামিক দেশে এই উৎসব বেশ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পালিত হচ্ছে।। মৌলবাদী সম্প্রদায়ের লোকেরা বিশ্বাস করে আধুনিক মুক্তচিন্তার লেখকরা মানুষকে মুক্তির ডাক দেয়। ফলে তাদের টাকা ধর্মীয় ব্যবসা, ফটকাবাজি হুমকির মুখে পড়ে! পশ্চিমা হ্যালোউইন একটি বিশেষ দিনে পালিত হলেও এশিয়া কিংবা ধর্মান্ধ সমাজের হ্যালোউইন হয় সুযোগ বুঝে। একই দিনে দুই তিন জন লেখককে হত্যা করে যেমন হ্যালোউইন করে তেমনি অনেক মাসে সুযোগের অভাবে হ্যালোউইন উৎসব হয় না।

ধর্মান্ধরা যেদিন হ্যালোউইন উৎসব করে তারা সেদিন মনে করে আসমান থেকে তাদের উপর রহমত বর্ষিত হয়। স্বর্গে তাদের জন্য ৭২টি হুর ও কিছু গেলমান অটোমেটিক বুকিং হয়ে যায়। পশ্চিমারা মনে করে হ্যালোউইন দিনে মৃত আত্মরা জীবিতদের পৃথিবীতে আসে নতুন দেহ নেওয়ার জন্য আর ধর্মান্ধরা বিশ্বাস করে ঐ দিন থেকে বেহেস্তে কিংবা স্বর্গে ৭২টি হুর তাদের জন্য অপেক্ষা করে কাইত হয়ে শুয়ে থাকা শুরু করে।

পশ্চিমা হ্যালোউইনে একটি লোককাহিনী থেকে বর্ণিত আছে যে সমস্ত মৃত ব্যক্তিরা ৩১শে অক্টোবর রাত্রিতে জীবিতদের বিশ্বে আসে আগামী বছরের নতুন দেহ নেওয়ার জন্য। এজন্য গ্রামবাসীরা এই খারাপ আত্মাদের থেকে বাচার জন্য ব্যবস্থা নেয়। এই প্রথাটি ছিল পবিত্র বেদি আগুন বন্ধ করা এবং নতুন আগুন জ্বালানো হতো (যেটি নতুন বছরের আগমন প্রতীক হিসাবে ছিল) পরবর্তী প্রভাতে। তেমনি ধর্মান্ধরা বিশ্বাস করে সুযোগ পেলেই জীবিত লেখক-প্রকাশকদের দোজখে পাঠিয়ে দিতে পারলে তাদের বেহেস্তের বুকিং নিশ্চিত হয়ে যাবে। ইসলামিক রাষ্ট্র (ছবি আঁকা হারাম, গান শোনা হারাম, মেয়েদের ঘরের বাহিরে যাওয়া হারাম, শুধু ঘরের ভেতর ঝিম মাইরা বসে থাকা আরাম) বানানোর লক্ষ্য তারা ভয়ানক-ভাবে এই উৎসব পালন করে।

টিভি সিরিয়ালে দেখতাম, পশ্চিমারা বিভিন্ন ভৌতিক সাজ সেজে মানুষকে ভয় দেখাতে চায়। বাংলাদেশে ভৌতিক সাজ কাউকে সাজতে হয় না কারণ মাথায় টুপি আর গালে দাড়ি থাকা কেউ যদি কাউকে জিজ্ঞেস করে-তুমি নামাজ পড় না? তাহলেই ভয়ে অর্ধেক মারা যায়।

ইসলামিকদের হ্যালোউইন উৎসবের ছবিগুলো ভয়ানক তাই দুর্বল হৃদয়ের কাউকে না দেখার জন্য অনুরোধ করছি। ভবিষ্যতে কোন লেখক আহত হলে ব্লগটি নিয়মিত আপডেট করা হবে।

লেখক ও ব্লগারদের উপর হামলা:

১১ জুন,২০১৮: লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে মুন্সিগঞ্জে নিজ প্রতিষ্ঠানে গুলি করে হত্যা করা হয়।। জেএমবির দায় স্বীকার।
৩ মার্চ ২০১৮: শনিবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীর নাম ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৪)।
২০ মে ২০১৬: কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুজ্জামান ও কুষ্টিয়ার হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার সানোয়ার রহমানের উপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার সানোয়ার রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং ড. সাইফুজ্জামানকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার ব্যাবস্থা চলছে।
২৫ এপ্রিল ২০১৬:ঢাকায় সমকামী বিষয়ক পত্রিকা রূপবানের সম্পাদকসহ ২ খুন। রূপবান পত্রিকার সম্পাদক জুলহাস মান্নান ইউএসএইডে কর্মরত ছিলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তাও ছিলেন তিনি। মাহবুব তম্ময় নাট্য ও সমকামীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের কর্মী ছিলেন। খুনিরা আল্লাহ আকবর স্লোগান দিয়ে চলে যায়।। হত্যা করে আনসার-আল-ইসলাম।
২৩ এপ্রিল ২০১৬: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী’কে নিজ বাসার পাশে সকাল বেলায় জবাই করে হত্যা করে ইসলামিক জঙ্গিরা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।-আইএসএস এই হত্যায় দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। প্রগতিশীল শিক্ষক হওয়ায় তিনি খুন হোন। স্থান রাজশাহী।
৬ এপ্রিল ২০১৬: নাজিমুদ্দীন সামাদ খুন হোন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বৈকালিক শাখায় মাস্টার্সের (এলএলএম) ছাত্র ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সমকালকে জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাজিম উদ্দিন ইকরামপুর মোড় দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ওই সময় কয়েক যুবক তার গতিরোধ করে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে গুলি করে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই সময় তারা ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দেয়। আনসার-আল-ইসলামের দায় স্বীকার
৩১ অক্টোবর ২০১৫: ঢাকায় শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে প্রকাশ টুটুলের সাথে আহত হোন কবি তারেক রহিম ও লেখক ও ব্লগার রণদীপম বসু।
৭ অগাস্ট ২০১৫: ঢাকার নিজ বাাসায় খুন হোন নিলান্দ্রী চট্টোপাধ্যায় ওরফে নীলয় নীল। আনসার-আল-ইসলামের দায় স্বীকার। স্থান-ঢাকা
১২ই মে ২০১৫: অফিস যাওয়ার পথে সকাল ৯ টায় খুন হোন অনন্ত বিজয় দাস। স্থান- সিলেট
৩০ মার্চ ২০১৫ সালে অফিস যাওয়ার পথে সকাল ৯ টায় খুন হোন ওয়াশিকুর বাবু। স্থান-ঢাকা
২৬শে ফেব্রুয়ারি: সালে বই মেলা থেকে ফেরার পথে রাত ৯ টার পর খুন হোন অভিজিৎ রায়, সাথে গুরুতর আহত হোন স্ত্রী লেখিকা বন্যা আহমদ। স্থান- ঢাকা
১৬ নভেম্বর ২০১৪: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এ কে এম শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অপরাধ- ক্লাশে হিজাবের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। স্থান-রাজশাহী
৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪: সাভারের আশুলিয়ায় ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র আশরাফুল আলমকে কুপিয়ে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। অপরাধ-ইসলামের দুশমন। স্থান-সাভার
২৪ জুন ২০১৪: রাকিব মামুন নামে এক ফেসবুকার’কে নাস্তিক হওয়ার অভিযোগে জঙ্গিরা তার উপর হামলা চালায়। স্থান-ঢাকা
৩০শে মার্চ ২০১৪: চট্টগ্রামে রায়হান রাহী আর উল্লাস দাসের ওপর শিবিরের লোকজন আক্রমণ করে (ফারাবির প্ররোচনাতে) স্থান-চট্টগ্রাম
২৮ ডিসেম্বর, ২০১৩: ‘ভাঙ্গামট’ বই আমদানি নিষিদ্ধ করে সরকার।
১১ অগাস্ট ২০১৩: বুয়েটের ছাত্র ব্লগার তন্ময় আহমেদ মুন হামলার শিকার হোন। স্থান-গাইবান্ধা
৯ এপ্রিল ২০১৩: বুয়েটের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আরিফ রায়হান দ্বীপ কুপিয়ে হত্যা করা বুয়েট ক্যাম্পাসে। স্থান-ঢাকা
১ এপ্রিল ২০১৩: সুব্রত শুভ, রাসেল পারভেজ, মশিউর রহমান বিপ্লবকে অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে গ্রেফতার করা হয়। এর পর ৩ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় আসিফ মহিউদ্দিনকে।
৭ মার্চ ২০১৩: মিরপুর পল্লবীতে প্রকৌশলী সানিউর রহমান জঙ্গি হামলার শিকার হোন। স্থান-ঢাকা
২ মার্চ ২০১৩: সিলেটে গণজাগরণ কর্মী ও ব্লগার জগৎজ্যোতি তালুকদার খুন হোন। স্থান-সিলেট
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩: রাত ৯:৩০ মিনিটে মিরপুর বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজিব হয়দার কে। স্থান-ঢাকা
১৫ জানুয়ারি ২০১৩: উত্তরায় অফিসে যাওয়ার সময় রাত প্রায় ১০টার দিকে হামলার শিকার হোন আসিফ মহিউদ্দিন। স্থান-ঢাকা
২০০৭: ‘প্রথম আলো’র আলপিন ম্যাগাজিনে কার্টুন একে অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেফতার। এবং কারাগারে জঙ্গিদের আক্রমণের শিকার হোন আরিফুর রহমান। বর্তমানে তিনি নরওয়ে’তে অবস্থান করছেন।
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৪: বই মেলা থেকে ফেরার পথে রাত আনুমানিক ৮:৩০ মিনিটে আহত হোন হুমায়ুন আজাদ। স্থান-ঢাকা
২০০২: ধর্মানুভূতিতে আঘাতের দায়ে তারেক মাসুদের মাটির ময়না সিনেমাটি নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ।
২০০০/৪: “নারী তুমি মানুষ ছিলে কবে?” বইটি লেখার অপরাধে লেখক মনির হোসেইন সাগরকে খুন করে জেএমবি। ২০০৬ সালে গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে তারা শুধু হুমায়ুন আজাদকে খুন করার জন্যে হামলা করেনি ২০০৪ সালের ২৮ এপ্রিল (যুগান্তর উল্লেখ করছে)/২০০০ সালে (ডেইলি স্টার উল্লেখ করছে) মনির হোসেইন সাগরকেও তারা খুন করে
১৮ জানুয়ারি, ৯৯: কবি শামসুর রাহমান এর নিজ বাড়িতে তাঁর ওপর আক্রমণ হন। স্থান-ঢাকা
১৯৯২: অধ্যাপক ও বুদ্ধিজীবী আহমদ শরীফ এর ফাঁসি চেয়ে আন্দোলন।
১৯৯৪: তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মৌলবাদীদের আন্দোলন।
১৯৭৪:কবিতা লিখে অনুভূতিতে আঘাতের অপরাধে কবি দাউদ হায়দার গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে দেশ ছাড়তে হয়।
১৯৭৪: সালে এনামুল হক নামে এক ব্যক্তি নবী মুহাম্মদের স্ত্রীদের সংখ্যা উল্লেখ করে একটি লিফলেট বিতরণ করে। এর জন্যে অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে বেচারাকে কয়েক দিন জেলে থাকতে হয়।

প্রকাশকদের উপর হামলা:

১২ জুন, ২০১৮: চট্টগ্রামের বলাকা প্রকাশনের সত্ত্বাধিকারী জামাল উদ্দিন হত্যার হুমকি পেয়েছেন বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হুমকি পাওয়া জামাল উদ্দিন এশিয়াটিক সোসাইটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ‘এনসাইক্লোপিডিয়া অব বাংলাদেশ ওয়ার অব লিবারেশন’ প্রকল্পে গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রামের সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
১১ জুন,২০১৮: লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে মুন্সিগঞ্জে নিজ প্রতিষ্ঠানে গুলি করে হত্যা করা হয়।।
৩১ অক্টোবর ২০১৫: অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করায় জাগৃতি প্রকাশনীর দীপন-কে কুপিয়ে হত্যা করে আনসার-আলইসলাম জঙ্গিরা। স্থান-শাহবাগ, ঢাকা
৩১ অক্টোবর ২০১৫: ঢাকায় শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে প্রকাশ টুটুলের সাথে আহত হোন কবি তারেক রহিম ও লেখক ও ব্লগার রণদীপম বসু।
২০১৫ সালের বই মেলায় হেফাজতের দাবী’র মুখে ‘নবী মুহম্মদের ২৩ বছর (অনুবাদ)’ বইটির নিষিদ্ধ করে বাংলা একাডেমি। বইটি প্রকাশের দায়ে “রোদেলা’ প্রকাশনী বন্ধ ও আগামী বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। বই প্রকাশের দায়ে রোদেলা প্রকাশনীর মালিক জঙ্গিদের থেকে মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছেন।

১১ জুন,২০১৮ লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে মুন্সিগঞ্জে নিজ প্রতিষ্ঠানে গুলি করে হত্যা করা হয়।। দুই বছর ধরে ফেসবুকে তিনি বিভিন্ন হুমকি-ধমকি পেয়ে আসছিলেন। পুলিশ ও আত্মীয়স্বজনরা বলছেন-মতাদর্শের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ২৮ জুন, লেখক-প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু হত্যার ‘প্রধান পরিকল্পনাকারী’ জেএমবি সদস্য আব্দুর রহমান পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
৩ মার্চ ২০১৮
শনিবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীর নাম ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল (২৪)।। এরপর জাফর ইকবালকে সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়েছে। এর আগে, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. দেবপদ রায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিকাল ৫টায় মঞ্চে ওঠার সময় পেছন থেকে মাথায় ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জহির উদ্দিন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মঞ্চের পেছন থেকে এসে এক ছেলে ছুরি মারে গলা, বুক ও মুখের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশসহ অন্যরা তাকে আটক করে।”
“নাস্তেক জাফর ইকবাল ইস্লামের শত্রু, আল্লা আর নবীর শত্রু তাই তারে কোপাইসি। উনি নিজেও নাস্তিক এবং অন্য সবাইকেও নাস্তিক বানানোর জন্য প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। তার লেখা পড়ে মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছে।” – হামলাকারী ফয়জুল।
র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভূতের বাচ্চা সোলায়মান নামক একটি উপন্যাসের কথা উল্লেখ করে ফয়জুর বলেছে, এই উপন্যাসের মাধ্যমে জাফর ইকবাল নবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন। তাই আমি হামলা করেছি।

কুষ্টিয়ার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুজ্জামান ও কুষ্টিয়ার হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার সানোয়ার রহমানের উপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার সানোয়ার রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং ড. সাইফুজ্জামানকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার ব্যাবস্থা চলছে।-২০ মে ২০১৬

ঢাকায় সমকামী বিষয়ক পত্রিকা রূপবানের সম্পাদকসহ ২ খুন। রূপবান পত্রিকার সম্পাদক জুলহাস মান্নান ইউএসএইডে কর্মরত ছিলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তাও ছিলেন তিনি। মাহবুব তম্ময় নাট্য ও সমকামীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের কর্মী ছিলেন। খুনিরা আল্লাহ আকবর স্লোগান দিয়ে চলে যায়।-২৫ এপ্রিল ২০১৬: ২৫ এপ্রিল, ২০১৬। হত্যা করে আনসার-আল-ইসলাম।
ঢাকায় সমকামী বিষয়ক পত্রিকা রূপবানের সম্পাদকসহ ২ খুন। রূপবান পত্রিকার সম্পাদক জুলহাস মান্নান ইউএসএইডে কর্মরত ছিলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তাও ছিলেন তিনি। মাহবুব তম্ময় নাট্য ও সমকামীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের কর্মী ছিলেন। খুনিরা আল্লাহ আকবর স্লোগান দিয়ে চলে যায়।-২৫ এপ্রিল ২০১৬: ২৫ এপ্রিল, ২০১৬। হত্যা করে আনসার-আল-ইসলাম।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী'কে নিজ বাসার পাশে সকাল বেলায় জবাই করে হত্যা করে ইসলামিক জঙ্গিরা।  তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।-আইএসএস এই হত্যায় দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। প্রগতিশীল শিক্ষক হওয়ায় তিনি খুন হোন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী’কে নিজ বাসার পাশে সকাল বেলায় জবাই করে হত্যা করে ইসলামিক জঙ্গিরা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।-আইএসএস এই হত্যায় দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। প্রগতিশীল শিক্ষক হওয়ায় তিনি খুন হোন। স্থান রাজশাহী।-২৩ এপ্রিল ২০১৬

নাজিমুদ্দীন সামাদ খুন হোন- ৬ এপ্রিল ২০১৬। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বৈকালিক শাখায় মাস্টার্সের (এলএলএম) ছাত্র ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সমকালকে জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাজিম উদ্দিন ইকরামপুর মোড় দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ওই সময় কয়েক যুবক তার গতিরোধ করে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে তাকে গুলি করে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই সময় তারা ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দেয়। আনসার-আল-ইসলামের দায় স্বীকার

অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করার অপরাধে ৩১ অক্টোবর ২০১৫ সালে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে আজিজ সুপার মার্কেটে কুপিয়ে হত্যা করে আনসার-আলইসলাম জঙ্গিরা। স্থান-শাহবাগ, ঢাকা। রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে ভেতরে ফেলে রেখে দরজা বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। নিহত ফয়সালের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক আবুল কাশেম ফজলুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আজ দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ফয়সাল তাঁর সঙ্গেই বাসায় ছিলেন। পরে তিনি শাহবাগে তাঁর প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানে যান। খোঁজ নেওয়ার জন্য তিনি কয়েকবার ছেলেকে ফোন করেন। কিন্তু ছেলে ফোন ধরেননি। বিকেল চারটার দিকে তিনি আজিজ সুপার মার্কেটের তিন তলায় ১৩১ নম্বর রুমের সামনে যান। এটি তাঁর ছেলের কার্যালয়। নিহতের বাবা আরও বলেন, ওই সময় তিনি কার্যালয়ের দরজা খুলতে গিয়ে বন্ধ পান। এ সময় কাচের দরজা দিয়ে ভেতরে আলো জ্বলতে দেখেন। ছেলে বাইরে গেছে ভেবে তখন তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে ছেলের বউকে ফোন করলে জানতে পারেন, দুর্বৃত্তরা লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর মালিক আহমেদুর রশীদ টুটুলসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেছে। এই কথা শুনে তিনি লোকজন নিয়ে আবার ছেলের কার্যালয়ে গিয়ে দরজা ভেঙে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর ছেলে পড়ে আছে।
ওই অবস্থায় ফয়সাল আরেফিনকে উদ্ধার করে তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সন্ধ্যা সাতটার দিকে হাসপাতালের আবাসিক সার্জন রিয়াজ মোর্শেদ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফয়সাল আরেফিন দীপনের স্ত্রী চিকিৎসক। তাঁর দুই ছেলে-মেয়ে। তাঁর অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার্থী। আর মেয়েটি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

৩১ অক্টোবর ২০১৫ সালে ঢাকায় শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে প্রকাশ টুটুলের সাথে আহত হোন কবি তারেক রহিম।

৩১ অক্টোবর ২০১৫ সালে শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে আহত প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল। স্থান-ঢাকা

৩১ অক্টোবর ২০১৫ সালে ঢাকায় শুদ্ধস্বর কার্যালয়ে প্রকাশ টুটুলের সাথে আহত হোন লেখক ও ব্লগার রণদীপম বসু।

৭ ৭ অগাস্ট ২০১৫ সালে ঢাকার নিজ বাাসায় খুন হোন নিলান্দ্রী চট্টোপাধ্যায় ওরফে নীলয় নীল। আনসার-আল-ইসলামের দায় স্বীকার। স্থান-ঢাকা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে নিলয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস লেখেন- এ বছরের ১৫ই মে, অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত একটি সমাবেশে যোগ দিয়ে ফেরার পথে নিলয়কে কয়েকজন অনুসরণ করছিল। বুঝতে পেরে তিনি পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন জিডি করতে, তার জিডি কেউ নিতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে তিনি ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, নিজের জীবনের শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছিলেন। নিজের জীবন দিয়েই তিনি প্রমাণ করে গেলেন যে বাংলাদেশে নাস্তিক, নির্ধর্মী, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, মৌলবাদবিরোধী, বাক্‌স্বাধীনতায় বিশ্বাসীদের কোনো নিরাপত্তা নেই, দেশত্যাগ ছাড়া তাদের বাঁচার আর কোনো উপায়ই যেন নেই। নিজের বাসায়ও কেউ নিরাপদ নয়; নিলয় নীলকে বাসায় ঢুকে হত্যা করা হয়েছে। বাসা ভাড়া নিতে আসার ভান করে তার বাসায় প্রথমে একজন এবং পরে আরো কয়েকজন ঢুকে বাসার অন্যদেরকে এক ঘরে আটকে রেখে তাকে অন্য ঘরে কুপিয়ে খুন করে। নিলয় ঘটনাস্থলেই মারা যান, রক্তের দাগ রেখে যান তার প্রিয় বইগুলোর প্রচ্ছদে, তার প্রিয় লিখনযন্ত্র কম্পিউটারের পর্দাতে।

২০১৫ সালের ১২ মে সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার পরে সিলেট নগরের সুবিদবাজারের নূরানি আবাসিক এলাকার চৌরাস্তার মোড়ে অনন্ত বিজয় দাশকে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। “চার অস্ত্রধারী তাকে কুপিয়ে আহত করে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।” হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাবিবুল্লাহ খান বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্য হয়েছে। তার মাথায় ও দুই হাতে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের ক্ষত ছিল।” সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ বলেন, “চারজন মুখোশধারী এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। পুলিশ তাদের সনাক্তে কাজ শুরু করেছে।” সুবিদবাজারের রবীন্দ্র কুমার দাশ ও পীযূষ রানী দাশের দুই মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে অনন্ত ছিলেন সবার ছোট। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে মাস্টার্স করার পর সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজারে পূবালী ব্যাংকের ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসাবে যোগ দেন অনন্ত বিজয়। ২০১৩ সালে ঢাকার শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে তরুণ-যুবারা সোচ্চার হলে সিলেটেও গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে তোলা হয়; অনন্ত ছিলেন এর অন্যতম উদ্যোক্তা। ৩১ বছর বয়সী অনন্ত অভিজিতের ব্লগ মুক্তমনায় লেখার পাশাপাশি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ব্লগসহ অনলাইনে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী ও যুক্তিনির্ভর লেখালেখি করতেন। ২০০৬ সালে তিনি মুক্তমনা র্যাশনালিস্ট অ্যাওয়ার্ড পান। অনন্তের সম্পাদনায় সিলেট থেকে বিজ্ঞান বিষয়ক ছোটকাগজ ‘যুক্তি’ প্রকাশিত হয়ে আসছিল। ‘সোভিয়েত ইউনিয়নে বিজ্ঞান ও বিপ্লব: লিসেঙ্কো অধ্যায়’, ‘জীববিবর্তন সাধারণ পাঠ’, ‘ডারউইন: একুশ শতকে প্রাসঙ্গিকতা এবং ভাবনা’ শিরোনামে তিনটি বইও রয়েছে তার।

৩০ মার্চ ২০১৫ সালে অফিস যাওয়ার পথে সকাল ৯ টায় খুন হোন ওয়াশিকুর বাবু। স্থান-ঢাকা

ঢাকা মেডিক্যালে নিজের শরীর দান করে যান লেখক অভিজিৎ রায়

এমনকি অপারেশন সার্চলাইটের পর
যখন অন্ধকার সারা শহর,
কয়েকজন জোনাকি’কে তবু রাখা গেলো না কিছুতেই নিভিয়ে;
একজন জোনাকির নাম অভিজিৎ রায়।
-সৈকত আমিন

২০১৫ খ্রিস্টাব্দে অভিজিৎ একুশে বইমেলা চলাকালীন ঢাকা যাত্রা করেন। ২৬শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাবেলায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা একটি রিকশায় করে একুশে বইমেলা থেকে বাড়ি ফেরার সময় সাড়ে আটটা নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের নিকটে অপরিচিত দুস্কৃতিকারীদের দ্বারা আক্রান্ত হন। সাক্ষীদের মতে, দুইজন দুষ্কৃতিকারী তাঁদের থামিয়ে রিকশা থেকে নামিয়ে রাস্তায় ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের কোপাতে থাকেন। অভিজিতের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তাঁর স্ত্রীর কাঁধে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে এবং বাম হাতের আঙুলগুলি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। উভয়কে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে যাওয়া হলে অভিজিৎ রাত সাড়ে দশটা নাগাদ মৃত্যুবরণ করেন। রাফিদা আহমেদ বন্যা চিকিৎসার পর বেঁচে যান। অভিজিৎ রায়কে অনেক আগ থেকেই উগ্রবাদীরা হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল তবে অভিজিৎ রায় এসব হুমকিতে কখনো ভয় পাননি। এদের হুমকি ধামকি উপেক্ষা করে ২০১৫ সালে তিনি ঢাকায় আসেন।
অভিজিতের মৃত্যুর একদিন পরে আনসার বাংলা-৭ নামক একটি সংঘঠন এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। অভিজিতের পিতা অজয় রায় ২৭শে ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন। ১লা মার্চ অভিজিতের মৃতদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য্যের নিকট রাখা হয়, যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান করেন।অভিজিতের ইচ্ছানুসারে তাঁর মৃতদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষণার জন্য প্রদান করা হয়।
অভিজিৎ রায়কে নিয়ে পড়তে: অভিজিৎ রায়

২০১৫ সালের বই মেলায় হেফাজতের দাবী’র মুখে ‘নবী মুহম্মদের ২৩ বছর (অনুবাদ)’ বইটির নিষিদ্ধ করে বাংলা একাডেমি। বইটি প্রকাশের দায়ে “রোদেলা’ প্রকাশনী বন্ধ ও আগামী বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। বই প্রকাশের দায়ে রোদেলা প্রকাশনীর মালিক জঙ্গিদের থেকে মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছেন।

হিজাবের জের ধরে ১১ জানুয়ারি ২০১৫ সালে চট্টগ্রামের নার্সিং ইনিস্টিটিউটের লেকচারার অঞ্জলি দেবী চৌধুরী’কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

১৬ নভেম্বর ২০১৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এ কে এম শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অপরাধ- ক্লাশে হিজাবের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। স্থান-রাজশাহী

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে সাভারের আশুলিয়ায় ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র আশরাফুল আলমকে কুপিয়ে হত্যা করেছে জঙ্গিরা। অপরাধ-ইসলামের দুশমন। স্থান-সাভার

২৪ জুন ২০১৪ সালে রাকিব মামুন নামে এক ফেসবুকার’কে নাস্তিক হওয়ার অভিযোগে জঙ্গিরা তার উপর হামলা চালায়। স্থান-ঢাকা

৩০শে মার্চ ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে রায়হান রাহী আর উল্লাস দাসের ওপর শিবিরের লোকজন আক্রমণ করে (ফারাবির প্ররোচনাতে) স্থান-চট্টগ্রাম

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৩ ‘ভাঙ্গামট’ বই আমদানি নিষিদ্ধ করে সরকার

ধর্মানুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ভারতের কলকাতার বিজয় প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আব্দুস সালাম (সালাম আজাদ) রচিত ‘ভাঙ্গামঠ’ বইটি বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতরের সিদ্ধান্তের পর গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ বইটি আমদানি না করতে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৩ ‘ভাঙ্গামট’ বই আমদানি নিষিদ্ধ করে সরকার

বগুড়ায় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী জিয়াউদ্দিন জাকারিয়া বাবু’কে খুন করে জামাত শিবিরের কর্মীরা।-১১ ডিসেম্বর ২০১৩

১১ অগাস্ট ২০১৩ সালে বুয়েটের ছাত্র ব্লগার তন্ময় আহমেদ মুন জঙ্গি হামলার শিকার হোন। স্থান-গাইবান্ধা

৯ এপ্রিল ২০১৩ সালে বুয়েটের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আরিফ রায়হান দ্বীপ কুপিয়ে হত্যা করা বুয়েট ক্যাম্পাসে। স্থান-ঢাকা

১ এপ্রিল ২০১৩ সালে রাসেল পারভেজ, মশিউর রহমান বিপ্লব ও সুব্রত শুভকে ধর্মানুভূতি আঘাতের দায়ে গ্রেফতার করা হয়। এর পর ৩ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় আসিফ মহিউদ্দিনকে। গ্রেফতারের পর ৭ দিনের রিমান্ড (পুলিশের হেফাজতে মোট ১০ দিন) এবং ৩২ দিন কারাগারে থাকার পর রাসেল পারভেজ ও সুব্রত শুভ জামিনে মুক্তি পান। অন্যরা পরবর্তীতে জামিনে বের হোন।
বিস্তারিত পড়তে: আমরা কয়েকজন চিলেকোঠার সেপাই

৭ মার্চ ২০১৩ সালে মিরপুর পল্লবীতে প্রকৌশলী সানিউর রহমান জঙ্গি হামলার শিকার হোন। স্থান-ঢাকা

২ মার্চ ২০১৩ সালে সিলেটে গণজাগরণ কর্মী ও ব্লগার জগৎজ্যোতি তালুকদার খুন হোন। স্থান-সিলেট

রাজিব হায়দারকে হত্যা:ব্লগিং করে অনুভূতি আঘাতের অভিযোগে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালে রাত ৯:৩০ মিনিটে মিরপুর বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজিব হয়দার কে। স্থান-ঢাকা

১৫ জানুয়ারি ২০১৩ সালে উত্তরায় অফিসে যাওয়ার সময় রাত প্রায় ১০টার দিকে হামলার শিকার হোন আসিফ মহিউদ্দিন। স্থান-ঢাকা

নারী তুমি মানুষ ছিলে কবে?” বইটি লেখার অপরাধে লেখক মনির হোসেইন সাগরকে খুন করে জেএমবি। ২০০৬ সালে গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে তারা শুধু হুমায়ুন আজাদকে খুন করার জন্যে হামলা করেনি ২০০৪ সালের ২৮ এপ্রিল (যুগান্তর উল্লেখ করছে)/২০০০ সালে (ডেইলি স্টার উল্লেখ করছে) মনির হোসেইন সাগরকেও তারা খুন করে।

নারী তুমি মানুষ ছিলে কবে?” বইটি লেখার অপরাধে লেখক মনির হোসেইন সাগরকে খুন করে জেএমবি। ২০০৬ সালে গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে তারা শুধু হুমায়ুন আজাদকে খুন করার জন্যে হামলা করেনি ২০০৪ সালের ২৮ এপ্রিল (যুগান্তর উল্লেখ করছে)/২০০০ সালে (ডেইলি স্টার উল্লেখ করছে) মনির হোসেইন সাগরকেও তারা খুন করে।

 

২০০২ সালে ধর্মানুভূতিতে আঘাতের দায়ে তারেক মাসুদের মাটির ময়না সিনেমাটি নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ।

নারী তুমি মানুষ ছিলে কবে?” বইটি লেখার অপরাধে লেখক মনির হোসেইন সাগরকে খুন করে জেএমবি। ২০০৬ সালে গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে তারা শুধু হুমায়ুন আজাদকে খুন করার জন্যে হামলা করেনি ২০০৪ সালের ২৮ এপ্রিল (যুগান্তর উল্লেখ করছে)/২০০০ সালে (ডেইলি স্টার উল্লেখ করছে) মনির হোসেইন সাগরকেও তারা খুন করে।

১৯৯৯ সালের ১৮ জানুয়ারি “হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী” (সংক্ষেপে হুজি) দলের সদস্যরা কবিতা সংগ্রহের নামে শামসুর রাহমানের বাড়িতে যাওয়া শুরু করে। প্রথমে তারা নিজেদের ছাত্রলীগের কর্মী পরিচয় দেয়। সময়-সুযোগ বুঝে ঈদের আগে কবিকে হত্যা করার পূর্ব-পরিকল্পনা করে জঙ্গিরা। আটক হওয়া ৯ জন জবানবন্দিতে উল্লেখ করে; তথাকথিত ইসলাম বিরোধী কবি-বুদ্ধিজীবীদের হামলার মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান স্টাইলে বিপ্লবের পরিকল্পনা গ্রহণ করে তারা। ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করে তারা। তাদের জবানবন্দিতে-সংগঠনের অর্থ লেন-দেন ও সামরিক প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। প্রমাণ হয় যে; সংগঠনটির সাথে আফগানিস্তানের আল-কায়দার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। পাকিস্তানের আইএস ও তালেবান থেকে সব রকম সাহায্য সহযোগিতা পেতে সংগঠনটি পেতে সক্ষম হয়। ইত্তেফাকের লিখছে; সদস্যরা জবানবন্দিতে বলছে সংগঠনটি বছর আলকায়দা থেকে এক কোটি টাকা অর্থ সহায়তা পেত। হামলাকারীদের সাথে ঢাকার তিনটি মাদ্রাসায় যোগাযোগ ছিল এবং হামলার প্রশিক্ষণও তারা মাদ্রাসা থেকে অর্জন করে। যদিও কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ হুজির সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নাই বলে বিবৃতি দিয়েছে।জানুয়ারি মাসে বুদ্ধিজীবী হত্যার নির্দেশ দেয় ধর্মীয় নেতা শেখ ফরিদ। নীল নক্সায় শুধু কবিকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল না! পরবর্তীতে অধ্যাপক কবির চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক আব্দুল আউয়াল, বেগম সুফিয়া কামাল, তসলিমা নাসরিন কে হত্যার দায়িত্ব ছিল আটক হওয়া হাসান, মাহতাব ও পলাতক আজাদের উপর ছিল। জানুয়ারিতে হামলার নির্দেশ দিয়ে শেখ ফরিদ দুবাই চলে যায়।
বিস্তারিত পড়তে:শামসুর রাহমান: মৌলবাদীদের হাতে আক্রান্ত এক নিঃসঙ্গ শেরপা

১৯৯৫ আনিসুল হক: আনিসুল হকের অন্ধকারের একশ বছর বইটি ১৯৯৫ সালের বইমেলায় প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটি নিয়েও সমালোচনা হয়।
১৯৯১ সালে তিনি একটি প্যারোডি রচনা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে সন্দেশ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আনিসুল হকের বইটিতে ‘ছহি রাজাকারনামা’ ছাড়াও ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’, ‘নমিনেশন ইন্টারভিউ গাইড’সহ কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হওয়ায় মৌলবাদীরা আবার হুমকি ধামকি শুরু করেন। অবশেষে আনিসুল হক আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, ‘আমার নিজের পক্ষ থেকে পবিত্র কোরআন শরিফকে ব্যঙ্গ করার বা প্যারোডি করার প্রশ্নই আসে না। কোরআন শরিফ ছন্দ ও অন্তমিল দিয়ে লিখিত। আমার এ লেখাটির কোথাও ছন্দ ও অন্তমিল নেই।’ তিনি বলেন, ‘তারপরও যদি কেউ এ লেখাটি পড়ে আহত বোধ করেন, তাহলে আমি নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী এবং আমার ক্ষমা প্রার্থনা হচ্ছে মহান আল্লাহর কাছে।’

১৯৯৩ সালে সরকারী এক তথ্যবিবরনীর মাধ্যমে তসলিমা নাসরিনের তসলিমা নাসরিন (জন্ম: ২৫ আগস্ট, ১৯৬২) ‘লজ্জা’ বইটি নিষিদ্ধ করা হয়। সেই তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, জনমনে বিভ্রান্তি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অঙ্গনে বিঘ্ন ঘটানো এবং রাষ্ট্র বিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার জন্য ‘লজ্জা’ নামক বইটির সকল সংস্করণ সরকার বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে। প্রকৃতপক্ষে মৌলবাদীদের আন্দোলনের কাছে মাথা নত করা সরকার, মৌলবাদীদের খুশি করতে বইটিকে বাজেয়াপ্ত করে। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হলেও পরবর্তীতে ৩০টিরও বেশি ভাষায় বইটি অনূদিত হয়।

১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামি ধর্মীয় আইন শরিয়া অবলুপ্তির মাধ্যমে কুরআন সংশোধনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর ফলে ইসলামি মৌলবাদীরা তাঁর ফাঁসির দাবী জানাতে শুরু করে। তিন লাখ মৌলবাদী একটি জমায়েতে তাঁকে ইসলামের অবমাননাকারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালালরূপে অভিহিত করে। দেশ জুড়ে তাঁর শাস্তির দাবীতে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে জনগণের ধর্মীয় ভাবনাকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয় এবং জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গ্রেপ্তারী এড়াতে পরবর্তী দুই মাসে লুকিয়ে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং তসলিমা বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

৯২-এর অক্টোবর মাস। ২২ অক্টোবর ডানপন্থী পত্রিকা দৈনিক ইনকিলাবের মাধ্যমে বাজারে রটে যায়, ২১ অক্টোবর ‘স্বদেশ চিন্তা সংঘে’র এক সেমিনারে আহমদ শরীফ বলেন, “ইসলাম টিকে আছে ইতরদের মধ্যে।” এই কথাটাকে উদ্ধৃত করে জামাত উন্মত্তের মত ঝাঁপিয়ে পড়ল। সেই আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন বদরুদ্দীন উমর! তিনি দৈনিক আজকের কাগজে ‘নাস্তিকতার আস্ফালন’ নামে একখানা লেখা লিখে ফেললেন। সময়টি ১৯৯২ সাল, গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে; জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালত করে গোলাম আজমের বিচারের আন্দোলন, ভারতের বাবরি মসজিদ ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে সারা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা ও উত্তেজনা, স্বৈরাচার বিদায়ের পর বিএনপির ক্ষমতার এক বছর, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে যখন রাজনৈতিক আঁতাত স্পষ্ট, ঠিক সেই সময় আহমদ শরীফের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামাত ও সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো মাঠে নেমে পড়ে। এখানে স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, আহমদ শরীফ জাহানারা ইমামের গণ-আদালতের একজন বিচারক ছিলেন। এবং তৎকালীন সরকার গণ-আদালতের যাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে তাদের মধ্যে আহমদ শরীফের নামটিও ছিল। ১৯৯২ সালে মৌলবাদীরা সমাবেশে ঘোষণা করে, তারা আহমদ শরীফসহ কোন নাস্তিকের জানাজা পড়াবেন না। আহমদ শরীফও ধর্মীয় নেতাদের জানাজা পড়ানোর অনুরোধ করেননি। ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯ শ্রদ্ধেয় মুরতাদ আহমদ শরীফ স্যার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মারা যাওয়ার আগে তিনি লিখে যান- আমার মৃত দেহ বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রদের গবেষণার জন্য দান করবেন। মরণোত্তর দেহ দান করার দলিলে স্পষ্ট করে লিখে দেন-“আমার জানাজার প্রয়োজন নেই”।
বিস্তারিত পড়তে: আহমদ শরীফের বিরুদ্ধে ধর্মাবমাননা ইস্যু ও বুদ্ধিজীবীদের অবস্থান

দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকায় ১৯৭৪ সালের ২৪ই ফেব্রুয়ারি ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নায় কালো বন্যায়’ নামে কবি দাউদ হায়দার একটি কবিতা লেখেন। দাউদ হায়দার বিভিন্ন ধর্মের নবী ও অবতারদের নিয়ে কবিতাটি লেখেন। শুধু ‘সংবাদের সাহিত্য পাতা’য় ছাপাননি , বলা হয়- কবিতাটি বায়তুল মোকারামের সামনে নিজ হাতে ঝুলিয়ে দিয়ে আসেন। ঝুলিয়ে দেওয়ার গল্পটি সম্ভবত সত্য নয়। সাধারণত পাঠকদের জন্যে ভবনের দেওয়ালে পত্রিকা চিকা মারা হয়ে থাকে। সম্ভবত চিকা মারা কাগজের মধ্যে সেখানে কবির কবিতাটিও ছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারিতে (১৯৭৪) তে কবিতাটি সংবাদের সাহিত্য পাতায় ছাপা হলে ঢাকা কলেজের এক শিক্ষক কবির বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপরেই কবির বিরুদ্ধে ধর্মবাদীরা কবির বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচী শুরু করে। ১১ই মার্চ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কারণে কবিকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে কবি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
বিস্তারিত পড়তে: প্রথম নির্বাসিত কবি ও কবিতা

একটা মজার তথ্য দিই, ১৯৭৪ সালে এনামুল হক নামে এক ব্যক্তি নবী মুহাম্মদের স্ত্রীদের সংখ্যা উল্লেখ করে একটি লিফলেট বিতরণ করে। এর জন্যে অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে বেচারাকে কয়েক দিন জেলে থাকতে হয়। দেখা যাচ্ছে; নবী মুহাম্মদের কয়জন পত্নী ও উপপত্নী ছিল কোরান হাদিসের ভিত্তিতে তা নিয়ে কথা বললেও ধর্মানুভূতির আঘাত আসে। বর্তমান বাংলাদেশে শুধু যে অবিশ্বাসী কিংবা নাস্তিকরা নিহত হচ্ছেন তা না। শিকার হচ্ছে নিজ ধর্মের ভিন্নমতের মানুষগুলোও। যেমন-গোপীবাগের সিক্স মার্ডার, মাওলানা ফারুকী, পীর খিজির খান থেকে শুরু করে অনেকেই। জামায়াত-বিরোধী প্রগতিশীল ইসলামী চিন্তাবিদ, চ্যানেল আই-এর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা শেখ নুরুল ইসলাম ফারুকী ২০১৪ সালের ২২শে আগস্ট নিজ বাসায় খুন হন। এখানে বলে রাখা দরকার মাওলানা ফারুকীকে হত্যার ঠিক দুইদিন আগে এটিএন বাংলা স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এনটিভি’র উপস্থাপক তারেক মনোয়ার বলেছিল ফারুকীর মতো শিরকী ও বিদআতিকে পুড়িয়ে মারা উচিত। তার বক্তব্যে সায় দিয়েছিল আর টিভি ও রেডিও টুডে’র উপস্থাপক খালিদ সাইফুল্লাহ বক্সী ও বাংলা ভিশনের মোক্তার আহমেদ। এর আগে ২০১২ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক সভায় দিগন্ত ও পিস টিভি’র উপস্থাপক কাজী ইব্রাহীম প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিল ফারুকীকে মেরে ফেলার।

৮ মে, ২০১৭: আহমদিয়া ইমাম মোস্তাফিজুর কে ইসলামপুর দারুস সুন্নাত জাফরিয়া মাদ্রাসার তিন ছাত্র দা গিয়ে কুপিয়ে আহত করে। আসামীদের ভাষায়-ইমাম মোস্তাফিজুরকে হত্যা করা ঈমানি দায়িত্ব।

৩০ এপ্রিল, ২০১৬: মুহাম্মদের নামে কটুক্তি করায় দর্জিকে কুপিয়ে-গলা কেটে হত্যা। নিখিল চন্দ্র জোয়ার্দার তিন বছর আগে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা) নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠৈ। ওই ঘটনায় এলাকার লোকজন বিক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

২২ মার্চ, ২০১৬: কুড়িগ্রামে ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা। তিবি বছর দশের আগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। পরিবার থেকে অভিযোগ ধর্ম পরিবতর্ন করায় তাঁকে হত্যা করে ইসলামিক জঙ্গিরা।

২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬: পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে যজ্ঞেশ্বর রায় নামে ওই হিন্দু পুরোহিতকে গলা কেটে হত্যা করে ইসলামিক জঙ্গিরা।

২৫ ডিসেম্বর ২০১৫: রাজশাহীর বাগমারায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং ১০ জন আহত হয়েছে।

১৯ ডিসেম্বর ২০১৫: চট্টগ্রামে নৌ বাহিনীর মসজিদে বোমা হামলা।বন্দর শহর চট্টগ্রামে বরাবরই মৌলবাদীদের বাড়তি দাপট রয়েছে। বুধবার শহরের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিজয় দিবস পালনের সময়ে বোমা ফাটিয়ে, হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান ভেস্তে দেয় জামাতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবির। তার ৪৮ ঘণ্টা পরে পতেঙ্গা তটভূমির কাছে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটিতে শুক্রবার এই হামলা চালানো হল। এ দিন দুপুরে নামাজের সময়ে পর পর কয়েকটি বিস্ফোরণ হয় মসজিদটিতে। একই সময়ে পাশের হাসপাতালেও একটি বোমা ফাটে। তবে নৌবাহিনীর কর্তারা বিষয়টি নিয়ে বিশেষ মুখ খুলেননি।

৫ ডিসেম্বর ২০১৫: দিনাজপুরে রাসমেলার যাত্রা প্যান্ডেলে বোমা বিস্ফোরণ। আহত ১০ জন।

২৬ নভেম্বর ২০১৫: বগুড়ায় শিয়া মসজিদে ঢুকে গুলি, মুয়াজ্জিন নিহত।

৫ অক্টোবর ২০১৫: জেএমবি’র ঘাতকরা ঈশ্বরদীতে খৃীষ্টান ধর্মীয় যাজক লুক সরকার (৫০) কে গলা কেটে হত্যা প্রচেষ্টা চালায়। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত জেএমবি’র ৫ সদস্যকে আটক করেছে।

২৪ অক্টোবর ২০১৫: পুরান ঢাকায় শিয়াদের সমাবেশে বোমা হামলায় নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক।

৫ সপ্টেম্বর ২০১৫: সালে চট্টগ্রামে মাজারে ঢুকে দুজনকে গলা কেটে হত্যাচট্টগ্রাম অফিস চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকার কথিত একটি মাজারে ঢুকে দুজনকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

৬ অক্টোবর ২০১৫: সালে রাজধানীতে খিজির খান নামে এক পীরকে জবাই করে হত্যা করেছে জঙ্গিরা।

২৭শে অগাস্ট ২০১৪: সালে নিজ বাসায় খুন হোন চ্যানেল আই টিলিভিশনে ‘কাফেলার পথে পথে’ অনুষ্ঠানের উপন্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। তার মতের অনুসারীরা এই খুনের জন্য জামাতকে দায়ী করেছে। স্থান-নিজ বাসা, ঢাকা

২১ ডিসেম্বর,২০১৩: (শনিবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর গোপীবাগের আর কে মিশন রোডের ৬৪/৬ নাম্বার বাসার দোতলায় লুৎফর রহমান ফারুক (৬০), তার ছেলে মনির হোসেন (৩০), অনুসারী সাইদুর রহমান (৩০), মজিবর রহমান (৩২), রাসেল (৩০) ও বাসার তত্ত্বাবধায়ক মঞ্জুর আলম ওরফে মঞ্জুকে গলা কেটে হত্যা করে জঙ্গিরা।
আলোচিত সিক্স মার্ডার। স্থান-ঢাক

এরকম অসংখ্য রক্তে ভিজে যাচ্ছে বাংলার মাটি। ধর্মীয় লেবাসে ৭১-এর ইয়াহিয়ার মতন এখন ইসলামপন্থীরা রক্তের হলি খেলা শুরু করেছে। কয়েক হাজার বছর আগ থেকে ধর্মীয় মৌলবাদীদের হাতে যারা নিহত হয়েছেন তাদের নিয়ে আহমদ রনি চমৎকার একটি ভিডিও। ভিডিওটি দেখতে পারেন। লেখাটি ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। তার লিংক-Halloween In Bangladesh এছাড়াও বাংলাদেশে ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে রির্পোট-Islamist Terrorism Fatalities in Bangladesh (2005 – 2015) ২০০৫ সাল থেকে ০১ নভেম্বর, ২০১৫ পর্যন্ত ইসলামিস্টদের হাতে বাংলাদেশে মোট ৫৩৫ জন খুন হয়েছে।

মুক্তমনায় লেখারটির ইংরেজী লিংক-A different kind of Halloween In Bangladesh: Brutal killings of free-thinkers

Luminary wayfarers of darkness

Print Friendly
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: